সাম্য ও স্বাধীনতার সুদৃঢ় কণ্ঠস্বর, বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘অগ্নিবীণা’র কালজয়ী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজকীয় আবির্ভাব পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার মন্ত্রে গোটা বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি একাধারে বিদ্রোহী ও প্রেমিক—যাঁর ‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’। শোষিতের সপক্ষে তাঁর বজ্রকণ্ঠ এবং প্রেমিকের সুকোমল আকুলতা—এই দুই বৈপরীত্যের এমন মহাকাব্যিক সমাহার বিশ্বসাহিত্যেই বিরল।
গল্প, উপন্যাস, গান কিংবা সাংবাদিকতা—সর্বত্র তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ থাকলেও, কবিতার ভুবনে তিনি অনন্য এক স্রষ্টা। বাংলা কবিতার ধারায় তিনিই প্রথম, যিনি রাজনীতি, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে পরম মমতায় শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন। শাস্ত্রাচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল চিরকাল আপসহীন। প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায় ও ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে নজরুলের কবিতা রেখেছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মেতে ওঠা এই বহুমাত্রিক প্রতিভার তাবৎ কাব্যকীর্তি মলাটবদ্ধ হয়েছে এই কবিতাসমগ্রে। দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার শাশ্বত এক প্রামাণ্য দলিল এই গ্রন্থ, যা যুগ যুগ ধরে পাঠকের তৃষ্ণা মেটাবে।