১৮৯৮ সালে জার্মানির ওসনাব্রুকে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত লেখক এরিখ মারিয়া রেমার্ক। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল এরিখ পল রেমার্ক। কৈশোরেই, মাত্র আঠারো বছর বয়সে, তিনি প্রত্যক্ষ করেন মানব ইতিহাসের ভয়াবহতম অধ্যায়—প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
লেখাপড়ার স্বাভাবিক পথ তখনই থেমে যায়। তরুণ রেমার্ককে বাধ্য হয়ে সৈনিকের দলে যোগ দিতে হয় এবং পাঠানো হয় ফ্রান্সের রণাঙ্গনে। টানা চার বছর যুদ্ধক্ষেত্রে কাটাতে গিয়ে তিনি বহুবার গুরুতরভাবে আহত হন—মোট পাঁচবার প্রাণঘাতী আঘাতের মুখোমুখি হন।
যুদ্ধ শেষ হলে তিনি ফিরে আসেন সম্পূর্ণ ভাঙা এক জীবনে। ততদিনে হারিয়ে ফেলেছেন মা, পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের প্রায় সবাইকে। নিঃসঙ্গ, শূন্য জীবনে দেশে ফিরে এসে তিনি গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছুটা মানসিক শান্তি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন, পাশাপাশি যুক্ত থাকেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। আর এই সময়েই ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁর সাহিত্যচর্চা।
পরবর্তীতে লটারিতে পাওয়া কিছু অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং যুদ্ধের তীব্র বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। এরই ফল হিসেবে ১৯২৮ সালে, মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে, প্রকাশিত হয় তাঁর যুগান্তকারী উপন্যাস All Quiet on the Western Front।
প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বইটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই এটি বিশ্বের ২২টি ভাষায় অনূদিত হয় এবং অসংখ্য দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিক্রির বিস্ময়কর সাফল্য এবং পাঠকপ্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, যুদ্ধবিরোধী সাহিত্য হিসেবে এটি বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য মাইলফলক হয়ে ওঠে।