এ এক মহাজীবনের উত্তরাধিকার। কখনো তাঁর কলমে আগুনঝরা কবিতা, কখনো খাকি উর্দি গায়ে সাহসী সেনানী। কোনো সময়ে ইনিই আবার পেলব প্রেমিক, তাঁকেই আবার দেখি দৃপ্ত লেখনীতে সাম্যের গান গাইছেন। এত বিচিত্র কর্মকাণ্ডে ভরা একটিই মানুষ। মনুষ্যত্বের সন্ধানে তাঁর জীবন-সফর। তাঁকে নিয়ে বাঙালির গর্বের অন্ত নেই।
বাংলার লোকায়ত নাট্যধারার উত্তরাধিকার তিনি বহন করেছেন আজীবন। তাই তাঁর নাটক ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলের বাঁধনে সীমাবদ্ধ নয়। তাতে মূর্ত বাংলার, বাঙালির নিখাদ প্রেম, বিরহ ও সমাজবাস্তবতা। নজরুলের নাটকে গানের ছড়াছড়ি। যে গীতলতা হাজার বছরের আবহমান বাংলা নাট্যের নিজস্ব শিকড়, তাকে নজরুল আধুনিক মঞ্চের ভাষায় সযত্নে প্রাণ দিয়েছিলেন। অনবদ্য এই সমগ্রটি নজরুলের সেই অদেখা শৈল্পিক দর্শনের দলিল।
গীতি-আলেখ্য, রূপক-সাংকেতিক এবং শিশুতোষ—মূলত এই তিন ধারায় বিন্যস্ত তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলো। ‘ঝিলিমিলি’, ‘আলেয়া’, ‘মধুমালা’ ও ছোটদের হাসির নাটক ‘পুতুলের বিয়ে’-এর মতো অসামান্য রচনাগুলোকে এক মলাটে ধরে রাখল এই নাটকসমগ্র। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আগেই নজরুলের এই বহুমুখী নাট্যপ্রতিভাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানে এই গ্রন্থ এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।